দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

সিএনজি ফিলিং স্টেশন মালিকরা তাদের কমিশন প্রতি ঘনমিটারে বর্তমান ৮ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৩ টাকা ৯৬ পয়সা নির্ধারণের দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধি ও অন্যান্য ব্যয় স্বয়ংক্রিয়ভাবে কমিশনের সঙ্গে সমন্বয়ের ব্যবস্থাও চেয়েছেন তারা। দাবি বাস্তবায়নে আগামী ৩০ জুনের মধ্যে কার্যকর উদ্যোগ না নিলে ১ জুলাই থেকে কঠোর কর্মসূচিতে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে সংগঠনটি।
শনিবার (৬ জুন) বাংলাদেশ সিএনজি ফিলিং স্টেশন এন্ড কনভার্সন ওয়ার্কশপ ওনার্স এসোসিয়েশন আয়োজিত এক সংবাদ সংগঠনের নেতারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সিএনজি খাতের বিভিন্ন যৌক্তিক দাবি বাস্তবায়নের জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরে বারবার যোগাযোগ করা হলেও অধিকাংশ সুপারিশ এখনো বাস্তবায়িত হয়নি।
তারা জানান, ২০১৩ সালে সিএনজি স্টেশন মালিকদের ধর্মঘটের পর জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের গঠিত উচ্চ পর্যায়ের কমিটি কমিশন বা মার্জিন ২ টাকা ৯৮ পয়সা বৃদ্ধির পাশাপাশি বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সমন্বয়ের সুপারিশ করেছিল। পরে বিইআরসি ২০১৫ সালে মাত্র ১ টাকা কমিশন বৃদ্ধি করলেও অবশিষ্ট ১ টাকা ৯৮ পয়সা এখনো বাস্তবায়ন হয়নি।
সংগঠনটির নেতারা বলেন, ২০১৫ সালের পর থেকে সাত দফা বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হলেও সিএনজি স্টেশন মালিকদের কমিশনের সঙ্গে তা সমন্বয় করা হয়নি। ফলে বিদ্যুৎ বিল, লাইসেন্স নবায়ন ফি, যন্ত্রপাতি রক্ষণাবেক্ষণ, কর্মচারীদের বেতন-ভাতা, ব্যাংক সুদ, ডলারের মূল্যবৃদ্ধির কারণে আমদানি করা যন্ত্রাংশের খরচ এবং সামগ্রিক মূল্যস্ফীতির চাপে স্টেশন পরিচালনা ক্রমেই অলাভজনক হয়ে উঠেছে।
তাদের দাবি, বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধিজনিত ব্যয় সমন্বয়ে ২ টাকা ৪৬ পয়সা এবং অন্যান্য পরিচালন ব্যয় সমন্বয়ে আরও ৩ টাকা ৫০ পয়সা কমিশন বাড়ানো প্রয়োজন। ফলে মোট ৫ টাকা ৯৬ পয়সা বৃদ্ধি করে কমিশন ১৩ টাকা ৯৬ পয়সা নির্ধারণ করা জরুরি। সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা, পরিবেশ সুরক্ষা এবং সাশ্রয়ী গণপরিবহন ব্যবস্থায় সিএনজি খাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। সরকারের উৎসাহে প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগে দেশে পাঁচ শতাধিক সিএনজি ফিলিং স্টেশন গড়ে উঠেছে এবং প্রায় ১০ লাখ যানবাহনে সিএনজি ব্যবহৃত হচ্ছে। এর ফলে বায়ুদূষণ কমার পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় ও স্বাস্থ্য খাতে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে।
সংগঠনের নেতারা বলেন, সরকার যদি দ্রুত তাদের দাবিগুলো বাস্তবায়ন না করে, তাহলে সিএনজি খাত টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়বে। তাই আগামী ৩০ জুনের মধ্যে দাবিগুলো বাস্তবায়নের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়। অন্যথায় ১ জুলাই থেকে কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তারা।
এমএম/